Monday, February 23, 2026

14>মহা শক্তিশালী শিব স্তুতি::----

 মহা শক্তিশালী শিব স্তুতি::-----

মহা ভয়,কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে 

প্রতি সোমবার জপ করতে হবে।

★★মন্ত্র::--

আশুতোষ শশাঙ্কশেখর,

চন্দ্রমৌলী চিদম্বরা,

কোটি কোটি প্রণাম শম্ভু

কোটি নমণ দিগম্বরা।

==============================

আশুতোষ শশাঙ্ক শেখর (শিব স্তোত্র)
আশুতোষ শশাঙ্ক শেখর চন্দ্র মৌলি চিদম্বরা,
কোটি কোটি প্রণাম শম্ভু কোটি নমন দিগম্বর।
নির্বিকার ওংকার অবিনাশী তুমি দেবাদিদেব,

জগত স্রষ্টা প্রলয় কর্তা শিবম সত্যম সুন্দরা।

দয়ানিধি দানিশ্বর জয় জটাধর অভয়ংকরা,

আশুতোষ শশাঙ্ক শেখর...
শূলপাণি ত্রিশূলধারী অউগড় বাঘম্বরী,
নাথ নাগেশ্বর হরো হর পাপ তাপ অভিশাপ তম।
জগতপতি অনুরাগী ভক্তি সদাই তব চরণ হো,
জনম জীবন জগত কা সংতাপ তাপ মিটে সভি।
আশুতোষ শশাঙ্ক শেখর...



Monday, February 16, 2026

13>|| মহাশিবরাত্রি 2026 ||

   13>|| মহাশিবরাত্রি 2026 ||

          <----আদ্যনাথ---->


২০২৬ সালের মহা শিবরাত্রি ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার (২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) পালিত হবে। চতুর্দশী তিথি শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫:০৪ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫:৩৪ মিনিটে । 


নিশিতা কাল (নিশিতা পূজার সময়) ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১২:০৯ থেকে ১:০১ পর্যন্ত । চার প্রহর পূজার সময় সন্ধ্যা ০৬:১১ থেকে ভোর ০৬:৫৯ পর্যন্ত ।



শিব অর্থ জ্ঞান। তিনি আশুতোষ।

শিব শান্ত,সৌম্য,ধীর,স্থির, আবার প্রলয়,

ধংস, তান্ডব।


তন্ত্রের দেবতা, রুদ্র,প্রলয়,

"সত্যম শিবম সুন্দরম"।


সুন্দরম অর্থ অদ্বৈতম। শিব হচ্ছে অদ্বৈত অর্থাৎ পবিত্র,এই পবিত্রবোধই হলো সৌন্দর্য এবং সেই সৌন্দর্যই হল সত্য ও শিবময়। 'সত্যম-শিবম-সুন্দরম ' ।


শিবপূজায় শিবলিঙ্গ স্নানার্থে প্রধাণত গঙ্গাজল বা গঙ্গাজল মিশ্রিত জল ব্যবহার করা হয় । আর বেলপাতা দেওয়া হয় তিনটি পাতাযুক্ত একটি যৌগিক পত্রকে । তবে বিশেষ লক্ষ্যণীয়, শিবের পূজার বেলপাতার প্রতিটি যৌগিক পত্রের নিচে বৃন্ত বা বোঁটার কাছের একটু মোটা অংশ অবশ্যই ভেঙ্গে বাদ দিয়ে তবে সেই বেলপাতা অর্পণ করা উচিত। 


সব ব্রতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হল এই মহাশিবরাত্রি। 


ব্রতের আগের দিন নিরামিষ আহার করা উচিত।  ব্রতের দিন উপবাসী থাকাই বাঞ্ছনীয়। তারপর রাত্রিবেলা চার প্রহরে শিবলিঙ্গকে দুধ, দই, ঘৃত, মধু ও গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করানো উচিত। 

তারপর বেলপাতা, নীলকন্ঠ ফুল, ধুতুরা, আকন্দ, অপরাজিতা প্রভৃতি ফুল দিয়ে পূজা করা হয়।

  ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ এই মহামন্ত্রেই জপ করা উচিত । 

 রাত্রি জাগরণ  ও শিবের ব্রতকথা, মন্ত্র আরাধণা করাই শিব পূজার বিধি। 


ভারতবর্ষের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গ তথা সমস্ত শিবমন্দিরে এই পূজা চলে, তান্ত্রিকেরাও এইদিন সিদ্ধিলাভের জন্য বিশেষ সাধনা করে। 


শিবরাত্রি' কথাটা দুটি শব্দ থেকে এসেছে। 'শিব' ও 'রাত্রি', যার অর্থ শিবের জন্য রাত্রী। শিবরাত্রির সঙ্গে প্রচলিত আছে নানা কথা। পুরাণ মতে দেবী পার্বতীর সঙ্গে এদিন দেবাদিদেব মহাদেবের মিলন হয়।  আবার শোনা যায় এদিন থেকেই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছিলেন। 


যজ্ঞের মধ্যে যেমন অশ্বমেধ যজ্ঞ, তীর্থের মধ্যে যেমন গঙ্গা তেমনই পুরাণ অনুযায়ী ব্রতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল শিব চতুর্দশীর ব্রত। তাই শিবরাত্রির ব্রত পালন করলে ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ- এই চতুর্বিধ ফল লাভ হয়। 


হিন্দু মহাপুরাণ তথা শিবমহাপুরাণ অনুসারে এইরাত্রেই শিব সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের মহা তান্ডব নৃত্য করেছিলেন । আবার এইরাত্রেই শিব ও পার্বতীর বিবাহ হয়েছিল । এর নিগুঢ় অর্থ হল শিব ও শক্তি তথা পুরুষ ও আদিশক্তি বা পরাপ্রকৃতির মিলন। এই মহাশিবরাত্রিতে শিব তার প্রতীক লিঙ্গ তথা শিবলিঙ্গ রূপে প্রকাশিত হয়ে জীবের পাপনাশ ও মুক্তির পথ দিয়েছিলেন।


মহাশিবরাত্রি ব্রতকথা::----


শিবমহাপুরাণ অনুসারে, অতি প্রাচীনকালে বারাণসী তথা কাশীধামে এক নিষ্ঠুর ব্যাধ বাস করত। সে প্রচুর জীবহত্যা করত। একদিন শিকারে বেরিয়ে তার খুব দেরি হওয়ার ফলে সে জঙ্গলে পথ হারিয়ে রাতে হিংস্র জন্তুর ভয়ে এক গাছের উপর আশ্রয় নেয় । কোনো শিকার না পেয়ে সে হতাশ হয়ে গাছ থেকে একটা করে পাতা ছিঁড়ে নিচে ফেলতে থাকে । সেই গাছটি ছিল বেলগাছ । আর সেই বেলগাছের নিচে একটি শিবলিঙ্গ ছিল। সেদিন ছিল শিবচতুর্দশী অর্থাৎ মহাশিবরাত্রি। আর ব্যাধও ছিল উপবাসী। তার ফেলা বেলপাতাগুলো শিবলিঙ্গের মাথায় পড়ে এর ফলে তার শিবচতুর্দশী ব্রতের ফল লাভ হয় তার অজান্তেই। পরদিন ব্যাধ বাড়ী ফিরে এলে তার খাবার সে এক অতিথিকে দিয়ে দেয়। এতে তার ব্রতের পারণ ফল লাভ হয়।


এর কিছুদিন পরে সেই ব্যাধ মারা গেলে যমদূতরা তাকে নিতে আসে। কিন্তু শিবচতুর্দশী ব্রতের ফল লাভ হেতু শিবদূতরা এসে যুদ্ধ করে যমদূতদের হারিয়ে ব্যাধকে নিয়ে যায়। যমরাজ তখন শিকার করেন যে শিবচতুর্দশী ব্রত পালন করে এবং শিব ভক্ত যেই জন, তার উপর যমের কোনো অধিকার থাকেনা। সে মুক্তিলাভ করে। এইভাবে মর্ত্যলোকে শিবচতুর্দশী ব্রতের প্রচার ঘটে।


জ্যোতির্লিঙ্গ পূজা::--


মহাশিবরাত্রি অনুষ্ঠানে ভারতবর্ষের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গ তথা সোমনাথ, মল্লিকার্জুন, মহাকালেশ্বর, ওঁকারেশ্বর, কেদারনাথ, ভীমশঙ্কর, বিশ্বেশ্বর, ত্র্যয়ম্বকেশ্বর, বৈদ্যনাথ, নাগেশ্বর, রামেশ্বর ও ঘুশ্মেশ্বর এ বহু মানুষের সমাগম হয় ও সবার হাতে এই জ্যোতির্লিঙ্গের পূজা ও পবিত্র স্পর্শলাভ ঘটে।


সকাল সকাল স্নন করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বস্ত্র ধারণ করে ৷ শিবমন্দিরে কালো তিল দিয়ে  মন প্রাণ দিয়ে একাগ্র চিত্তে  ভোলেবাবার অভিষেক করালে জীবনে কালসর্প দোষ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


আবার মধু দিয়ে স্নান বা অভিষেক করালে ধনপ্রাপ্তি হবে ফলে পাওয়া সম্ভব 

 অপার ঐশ্বর্য ৷ 


এইদিনে ভোলানাথের প্রিয় ভাং, বেলপাতা ও ধুতরা ফুল দিয়ে পুজো করলে কেটেযায় জীবনের সমস্ত বাধা বিপত্তি ৷

   <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

======================